করোনাভাইরাসে মৃত্যু ঠেকাতে দেশব্যাপী টিকাদানে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। সপ্তাহে ৬০ লাখ মানুষকে টিকা দেওয়ার টার্গেট নেওয়া হয়েছে। দেশের ১৩ হাজার ৮০০ ওয়ার্ডে টিকা কেন্দ্র করে তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়া হবে টিকা। ইউনিয়ন পর্যায়ে জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে গেলে স্পট নিবন্ধন করে দেওয়া হবে টিকা।

এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক (অসংক্রমক রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগ) ও মুখপাত্র অধ্যাপক ডা. রোবেদ আমিন বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ও মৃত্যুরোধে সারা দেশে করোনার টিকা দিতে বিস্তর পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে টিকাদানে আমাদের আগের অভিজ্ঞতা কাজে লাগবে। ইউনিয়ন পর্যায়ে আমাদের স্বাস্থ্যকর্মীরা টিকা দেবেন। যেহেতু হাসপাতালে টিকা দেওয়া হচ্ছে না তাই নার্স, ডাক্তার থাকছেন না।’ তিনি আরও বলেন, ইউনিয়ন পর্যায়ে যারা অনলাইনে নিবন্ধন করতে পারেন তারা করবেন। না পারলে টিকা কেন্দ্রে জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে এলে নিবন্ধন করে টিকা দেওয়া হবে। জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকলে বিকল্প হিসেবে পাসপোর্ট দিয়ে টিকার নিবন্ধনের ব্যবস্থা করা হবে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে টিকা সংরক্ষণ করা হবে। টিকা দেওয়ার দিন কোল্ড বক্সে নিয়ে গিয়ে টিকা দেবে, যেভাবে অন্য রোগের টিকা দেওয়া হয়েছে। অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা এবং চীনের সিনোফার্মের টিকা তুলনামূলক কম তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করা যায়। তাই সেগুলো ইউনিয়ন পর্যায়ে পাঠানো হবে। মডার্না, ফাইজারের টিকা সিটি করপোরেশন এলাকায় দেওয়া হবে। যাতে তাপমাত্রার কারণে টিকা সংরক্ষণে কোনো সমস্যা না হয়। দেশের বিপুলসংখ্যক জনগোষ্ঠীকে এভাবে করোনা টিকার আওতায় আনা হবে।

স্বাস্থ্য অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, আগামী ৭ আগস্ট থেকে ইউনিয়ন পর্যায়ে করোনাভাইরাসের টিকাদান কার্যক্রম শুরু হবে। টিকা দিতে ১৩ হাজার ৮০০ ওয়ার্ডে টিকা কেন্দ্র করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। তৃণমূলে টিকা পৌঁছে দিতে এ পরিকল্পনা করা হয়েছে। এত দিন ঢাকার বাইরে জেলা সদর হাসপাতাল, পুলিশ লাইনস হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে টিকা দেওয়া হয়েছে। করোনা সংক্রমণ দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়ায় বড় পরিসরে টিকাদান কর্মসূচি শুরু করার পরিকল্পনা করেছে সরকার। এর মধ্যেই দেশে টিকা আসতে শুরু করায় জোরেশোরে চলছে টিকা ক্যাম্পেইনের পরিকল্পনা। প্রতিদিন ১০ লাখ মানুষকে টিকা দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। শুক্রবার বাদে সপ্তাহে ছয় দিনে ৬০ লাখ মানুষকে টিকা দেওয়ার টার্গেট নিয়ে পরিকল্পনা করছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। গত মঙ্গলবার স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, ‘আগামী ৭ আগস্ট থেকে আমরা ইউনিয়ন পর্যায়ে টিকা কার্যক্রম শুরু করছি। এবার টিকা দেওয়ার বিষয়ে আমরা বেশি জোর দিচ্ছি। ইউনিয়ন পর্যায়ে ইউনিয়ন পরিষদে টিকা কেন্দ্র স্থাপন করছি। সেখান থেকে ইউনিয়নের লোকজন, যারা টিকা নিতে চান বা প্রয়োজন, তারা নিতে পারবেন। তারা জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে এলে টিকা দিতে পারবেন।’

 

এখন পর্যন্ত ২১ কোটি ডোজ টিকা পাওয়ার বিষয়ে নিশ্চয়তা পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। তিনি বলেছেন, ‘আমরা ২১ কোটি ডোজ টিকার ব্যবস্থা করতে পেরেছি। চুক্তি ও প্রতিশ্রুতি পেয়েছি টিকা পাওয়ার। এর মধ্যে চীনের সিনোফার্মের ৩ কোটি, অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার ৩ কোটি, কোভ্যাক্সের ৭ কোটি ডোজ, রাশিয়ার ১ কোটি ডোজ ও জনসন অ্যান্ড জনসনের ৭ কোটি ডোজ রয়েছে।’

আগামী আগস্ট মাসে চীন আরও ৪০-৫০ লাখ ডোজ টিকা পাঠাবে। কোভ্যাক্স সহায়তা থেকে অক্সফোর্ডের ১০ লাখ ও ফাইজারের ৬০ লাখ টিকা আগামী সেপ্টেম্বর মাসের শুরুতে আসার কথা রয়েছে। রাশিয়ার সঙ্গে খুব দ্রুতই টিকার চুক্তি হতে পারে বলে জানা গেছে। চুক্তি হলে রাশিয়া থেকে প্রথম ধাপে পাওয়া যাবে ১০ লাখ টিকা। সব মিলিয়ে সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে ২ কোটি ডোজ টিকা পাওয়া যাবে বলে স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে জানা গেছে। এর বাইরেও চীনের সহযোগিতায় বাংলাদেশে চীনের টিকা উৎপাদন প্রক্রিয়া চলছে।

দেশে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা টিকার দ্বিতীয় ডোজের জন্য অপেক্ষমাণদের জন্য আসছে সুখবর। ভারত টিকা রপ্তানি বন্ধ করায় অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা দেওয়া ১৫ লাখ ২১ হাজার মানুষের দ্বিতীয় ডোজ অনিশ্চিত হয়ে যায়। কোভ্যাক্স সহায়তার মাধ্যমে জাপান থেকে আসা টিকা দিয়ে আগামী সপ্তাহে শুরু হতে পারে টিকা কার্যক্রম। জাপান থেকে কোভ্যাক্স সহায়তার মাধ্যমে আড়াই লাখ অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা দেশে এসেছে। আগামী শুক্রবার আরও ৫ লাখ টিকা আসার কথা রয়েছে।