জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী কুমার বিশ্বজিৎ করোনাকালেও নিয়মিত নতুন গানে কণ্ঠ দিয়ে যাচ্ছেন। পাশাপাশি পুরোনো কিছু গানও নতুন করে প্রকাশের উদ্যোগ নিয়েছেন। করোনায় দিনযাপন, গান এবং অন্যান্য বিষয় নিয়ে আজকের ‘হ্যালো…’ বিভাগে কথা বলেছেন তিনি।

* এখন সময় কেমন কাটছে আপনার?

** আমি যখন যে অবস্থাতেই থাকি না কেন, গান নিয়ে ব্যস্ত থাকি। নতুন গান তৈরির কাজে সময় দিচ্ছি। গত দুই মাসে আমার পাঁচটি গান তৈরি হয়েছে। এগুলো প্রকাশ করার কাজও চালিয়ে যাচ্ছি।

* গত ঈদে তো আপনাকে গানে সক্রিয় দেখা যায়নি?

** টিভিতে কয়েকটি অনুষ্ঠানে গাওয়ার প্রস্তাব ছিল। কিন্তু সে সময় আমি ঘর থেকেই বের হইনি। পরিবারের সদস্যদের আপত্তি ছিল, আমি যেন বাসা থেকে বের না হই। কারণ করোনা পরিস্থিতি এখন বেশ খারাপ অবস্থায় আছে। আমি যদি বাইরে গিয়ে আক্রান্ত হই, তাহলে পরিবারের সদস্যরাও ঝুঁকিতে পড়বে। তাই সবদিক বিবেচনা করে ঈদের অনুষ্ঠানে গান করিনি।

* গত বছর মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে একটি গান প্রকাশ করেছিলেন। সেটির সাড়া কেমন পাচ্ছেন?

** ‘হে বন্ধু বঙ্গবন্ধু’ শিরোনামের গানটির গীতিকার গাজী মাজহারুল আনোয়ার। তিনি অনেক আগেই এটি লিখেছিলেন। তার কথা এবং কিশোরের সুরে বেশ সুন্দরভাবেই কাজটি হয়েছিল। বঙ্গবন্ধুর মতো মহানায়ককে আমার পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানানোর জন্যই এ আয়োজন।

* আপনার গাওয়া পুরোনো গানগুলো নতুন সংগীতায়োজনে তৈরি করার কাজ শুরু করেছিলেন অনেক আগেই। সেই কাজের অগ্রগতি কতদূর?

** এ প্রজেক্টের জন্য আমি ৫০টি গান নির্বাচন করেছি। এর মধ্যে পাঁচটি গানের কাজ শেষ। আমার ইচ্ছা আছে পাঁচটি করে গান একসঙ্গে প্রকাশ করার। এ গানগুলো অ্যানালগ যুগে প্রকাশ হয়েছিল। মূলত এগুলোকে ডিজিটাল ফরমেটে রূপান্তর এবং সংরক্ষণের জন্যই এ উদ্যোগ নিয়েছি। আশা করছি, এরই মধ্যে এ প্রজেক্টের গানগুলো প্রকাশ করতে পারব।

* করোনাকালে জীবন নিয়ে আপনার উপলব্ধি কী?

** আমরা অর্থ বিত্ত কিংবা অন্যান্য জাগতিক বিষয়ের জন্য প্রচুর সময় ব্যয় করি। মৃত্যু নিয়ে ভাবনা না থাকার কারণেই মানুষ এসব কাজ করে। মৃত্যু অবধারিত। আমি মনে করি, এ করোনাকালে জীবনকে বিশুদ্ধ করার সময় এসেছে। নিজের জন্য অনেক কাজ করেছি। এবার আমার পরবর্তী প্রজন্মের জন্য আরও কিছুদিন বাঁচতে চাই।